ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর কেনো রাস্তায় নামতে হল

জাতীয়

ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর কেনো রাস্তায় নামতে হল

আক্তার: আ্যাসাইনমেন্টে গিয়েছি শাহবাগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে। রাস্তা অবরোধ, প্রতিবাদ, গাড়ি ভাংচুর। একটাই স্লোগান- উই ওয়ান্ট জাস্টিস।

সবার কাধেই স্কুল ব্যাগ। ছোট ছোট বাচ্চা। দেখলাম বাস ভাংচুরের আগে ওরা ড্রাইভিং লাইসেন্স চাচ্ছে, না পেলে গ্লাস ভাংগছে। ভাংগার আগে যাত্রীদের নিরাপদে সরিয়ে নিচ্ছে নিজেরাই।

প্রায় ৫০ টার মতো গাড়ি ভেংগেছে ওরা কিন্তু একজন যাত্রীও আহত হয়নি, আগুন দিয়েছে বাসে কিন্তু কাউকে আঘাত করেনি।রাস্তায় মিছিল করছে, আটকে রেখেছে রাজপথ। কিন্তু আটকায়নি কোন আ্যম্বুলেন্স। আ্যম্বুলেন্স আসলেই নিজেরাই পথ করে দিয়ে পার করে দিচ্ছে।

বক্তব্য নিচ্ছিলাম। এর ফাকে কিছু ছোট ছোট শিক্ষার্থী এসে জিজ্ঞাসা করলো আপু, বলেন তো আমাদের কেনো বলছে টিসি দিয়ে দেবে। বলেন তো আপু, সিটি কলেজের সামনে থেকে সিটিং সার্ভিসগুলো দাড়ায়ে যাত্রী তোলে তখন তো পুলিশ কিছু বলে না।

আমরা ভাড়া একটু কম দিলে আমাদের হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়। বলেন তো আপু, আমাদের কেনো ভাড়ায় হাফ পাশ দেয় না।

সবাই বলে ছাত্ররা দেশের ভবিষ্যত। তাহলে আমাদের ভাড়া কমায় না, আমাদের দাবি কেউ শুনে না, আমাদের জীবনের দাম নাই কেনো।

আপু বলেন না, আমরা কি খারাপ কিছু চাইছি। স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে বাসগুলো যাত্রী তোলে, আমরা দুএকজন বেশি উঠতে চাইলে ড্রাইভার বলে, এরা ভাড়া দিবে না উঠাস না।

এরপরও জোড় করে উঠতে চাইলে ধাক্কা দেয়, কতবার আমি ও আমার বন্ধুরা পড়ে গিয়ে হাত পা ছিলে গেছে। তখন তো ওদের কেউ কিছু বলে না, পুলিশও কিছু বলে না।

তাহলে লাঠি নিয়ে আমাদের মারতে আসে কেনো। আপু বলেন না, তাহলে কিভাবে আমরা দেশের ভবিষ্যত? একবার ২৫ টাকার জায়গায় ২০ টাকা দিছি বলে আমাকে মাঝপথে নামিয়ে দিছে, আপু বলেন তো দেশের ভবিষ্যতের দাম কি ওই পাঁচ টাকা। আমার কাছে এর বেশি ছিলো না। থাকলে দিতাম।

একজন বললো, আপু আ্যক্সিডেন্টের ওখানে আমি ছিলাম। আমরা সবাই কথা বলছিলাম, ওরা প্রতিযোগীতা করে গাড়ি গায়ের উপর তুলে দিয়েছে। একটা বড় গাছও উপড়ে গেছে। মনে হলে আমার এখনো ভয় লাগে।

আরেকজন বললো, আপু আট, নয় বছরের ছেলে লেগুনা চালায়, ওদের পুলিশ বাধা দেয় না কেনো। আমাদের কেনো বাধা দিচ্ছে। লাইসেন্স নাই, গাড়ির ফিটনেস নাই, এগুলো কেনো রাস্তায় চলবে? একসাথে এত এত শিশুর সমস্বরে প্রশ্ন, আমি নিরুত্তর।

কি বলবো, আমার কাছে ছোট মুখের এই কথাগুলোর উত্তর নেই।আমি বললাম, তোমরা এদিকে থাকো, আপু ওদিকটার ফুটেজ নিতে ক্যামেরাপারসনকে বলে আসছি। এই বলে পালিয়ে বাচলাম।

ফেরার সময় গাড়িতে বসে ভাবছি, আচ্ছা ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর কেনো রাস্তায় নামতে হলো, ১৬ কোটির বেশি মানুষের দেশ, নিরাপদ সড়ক তো আমরা সবাই চাই। তাহলে?

পথেই পড়লো একটা স্কুল। আমাদের জাতীয় পতাকা দেখা যাচ্ছে। আকাশে মেঘ জমে আছে, বাতাস নেই তাই পতাকাটা উড়ছে না। চারদিক গুমোট।

মনে হলো, একটা দমকা হাওয়া আসতো যদি, লাল সবুজ পতাকাটা পত পত করে উড়তো। কেনো উড়ছে না…. কানে বাজছে, আপু বলেন না…. আপু বলেন না…..

লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *