জাতিসংঘ, ইইউ ও ১৫ টি দেশের কূটনৈতিকদের সাথে বিএনপির বৈঠক চলছে

জাতীয় রাজনীতি

দেশের চলমান রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৭ আগস্ট) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় এ বৈঠক শুরু হয়। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর চতুর্থবারের মতো কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন দলটির নেতারা।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত রয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড.আব্দুল মঈন খান, চেয়াররপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক শ্যামা ওবায়েদ, জেবা খান, অ্যাড.ফাহিমা মুন্নি, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাড.এ জে মোহাম্মাদ আলী, নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল ও তাবিথ আউয়াল।

বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত আছেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স, অস্টেলিয়া, স্পেন, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপান, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ ও চীনের প্রতিনিধিরা।

দলীয় বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন, দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা-নির্যাতনের প্রসঙ্গগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। এছাড়া গত শনি ও রবিবার রাজধানীর জিগাতলা ও ধানমন্ডি এলাকায় সংঘটিত সংঘর্ষের ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া বার্নিকাটের গাড়িবহরে হামলার বিষয়টিকেও বৈঠকে প্রাধান্য দেবেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ। হামলার সঙ্গে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা সম্পৃক্ত এমন তথ্য-প্রমাণাদিও তুলে ধরা হবে।

এর মধ্যে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের নাম, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা বৈঠকে তুলে ধরা হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।

শহিদুল আলমকে দ্রুত বিএসএমএমইউ’য়ে ভর্তির নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রখ্যাত আলোকচিত্রী এবং দৃক ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ড. শহিদুল আলমকে দ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আগামী বৃহস্পতিবারের (৯ জুলাই) মধ্যে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দাখিলেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শহিদুল আলমের রিমান্ডের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ও তাকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগির হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এ নির্দেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনটি দায়ের করেন শহিদুল আলমের স্ত্রী অধ্যাপক ড. রেহনুমা আহমেদ।

এদিন শহিদুল আলমের পক্ষে রিট আবেদনের শুনানি করেন ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

এর আগে, গতকাল সোমবার শহিদুল আলমকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ওই দিনই তার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান।

মামলার এজাহারে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব ও উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

গত রবিবার (৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহিদুল আলমকে তার নিজ বাসা থেকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শহিদুল আলমকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশের অ্যাডিশনাল কমিশনার কাজী শফিউল আহমেদের বরাত দিয়ে শহিদুল আলমের পার্টনার অধ্যাপক রেহনুমা আহমেদ জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *